জেনারেটর এর এলার্ম,প্রোটেকশান সিস্টেম,সমস্যা ও সমাধানের উপায় জানুন | Generator

0
1040
জেনারেটর

জেনারেটর এর এলার্ম,প্রোটেকশান সিস্টেম,সমস্যা ও সমাধানের উপায়

জেনারেটর এর নানারকম এলার্ম ,প্রোটেকশান সিস্টেম,সমস্যা ও কিভাবে সেগুলোর সমাধান করা যাবে সেগুলো নিয়ে আজকের লিখাটি। আপনাদের মাঝে যে সকল মানুষ জেনারেটর নিয়ে কাজ করে থাকেন বা জেনারেটরের সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত তাদের সকলের জন্য আমাদের আজকের এই লিখাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ । আপনাদের সামনে যে কোন সময় এই এলার্ম বা সমস্যা ফুলো চলে আসতে পারে যেগুলোর সমাধান আপনারা হয়তো নিজেরাও সমাধান করে ফেলতে পারবেন।

যে সকল সমস্যা এবং সমাধান নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করতে চলেছি সেগুলো হিন্টস আকারে প্রথমেয় তুলে ধরা হলো ।

১। লুব ওয়েল প্রেসার লো দেখাবার কারন ও সমাধান।

২। ওভার অথবা আন্ডার  ফ্রিকোয়েন্সী বা ভোল্টেজ দেখাবার কারন ও প্রতিকার।

৩। হাই জ্যাকেট ওয়াটার টেম্পারেচার লিখা উঠার কারন এবং উঠলে কি করতে হবে?

৪। স্টার্টিং মটর দুর্বল , ব্যাটারী দুর্বল, স্টার্টিং পাম্প এর প্রেসার কম হয় কোন কারনে?

৫। জেনারেটর এর আর. পি.এম ধীরে ধীরে কমে যাওয়া  ইঞ্জিনের লোড কমে  যাওয়া এবং এক সময়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারন কি?

৬।  ইঞ্জিনের জ্যাকেট ওয়াটার টেম্পারেচার বেড়ে যায় কি কারনে?

৭। জেনারেটর চালু দিতে গেলে  সমস্যা হয়ার  কিছু কারণ  ।

চলুন আমরা এবার জেনারেটর নিয়ে উপরে উল্লেখিত ৭টি প্রশ্নের উত্তর জেনে নিই।

জেনারেটর নিয়ে ভাইবা প্রশ্নো এবং উত্তর জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইউটিলিটি এবং পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

জেনারেটর, টারবাইন,কনডেন্সার এবং বয়লার নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

 লুব ওয়েল প্রেসার লো দেখাবার কারন ও সমাধান

সাধারণত লুব ওয়েল পাম্প ঠিক ভাবে কাজ না করলে, লুব ওয়েল ফিল্টার জ্যাম বা অপরিস্কার থাকলে অথবা ইঞ্জিন এর সাম্প এ যদি পরিমান মত লুব ওয়েল না থাকে বা কম থাকে কিংবা লুব ওয়েল লাইনে যদি বাতাস লক হয়ে থাকে তাহলে “লো লুবওয়েল প্রেসার” এলার্ম আসে । এই লুব ওয়েল প্রেসার এর সীমা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০০ KPA এবং সর্বনিম্ন ২৭৫ KPA । এর বাহিরে গোলেই ইঞ্জিন ট্রিপ করবে । সাধারণত স্বাভাবিক লুব ওয়েলের প্রেসার হচেছ ৪২২ KPA

জেনারেটর

ওভার অথবা আন্ডার  ফ্রিকোয়েন্সী বা ভোল্টেজ দেখাবার কারন ও প্রতিকার

সাধারণত ইঞ্জিন চলার সময় ফ্রিকোয়েন্সী ৫০ হার্জ এবং ভোল্টেজ (৪০০-৪১৫) ভোল্ট থাক । অনেকসময় নির্দিষ্ট সীমার বাহিরে গেলে ইঞ্জিনের ফ্রিকোয়েন্সী, ভোল্টেজ বাড়তে বা কমতে পারে । এইসময়  ইঞ্জিনের স্পীড বেশী কমে গেলে হার্জ এবং ভোল্টেজ কমে গিয়ে ট্রিপ করতে পারে । এখানে আবার হঠাৎ করে লোড কেটে গেলে ইঞ্জিন স্পীড বেড়ে গিয়ে অভার ফ্রিকোয়েন্সী কিংবা অভার ভোল্টেজ ট্রিপ করার সম্ভাবনা থাকে ।  মূলত ফুয়েল সাপ্লাই বাধা গ্রস্থ হলে ইঞ্জিনের আর পি এম কমে যায় এবং তখন ইঞ্জিনে লোড থাকলে আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সী বা আন্ডার ভোল্টেজ এলার্ম এসে ইঞ্জিন ট্রিপ করে বা বন্ধ হয়ে  যায় ।

জেনারেটর নিয়ে ভাইবা প্রশ্নো এবং উত্তর জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইউটিলিটি এবং পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

জেনারেটর, টারবাইন,কনডেন্সার এবং বয়লার নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

হাই জ্যাকেট ওয়াটার টেম্পারেচার লিখা উঠার কারন এবং উঠলে কি করতে হবে?

সাধারণত ইঞ্জিনের টেম্পারেচার  লোড বাড়া  অথবা কমার সাথে পরিবর্তিতহয়ে থাকে। এখানে  ফুল লোডে একটি ইঞ্জিনের অপারের্টিং টেম্পারেচার ( ৮৮-৯৯০ সেঃ ) বা ( ১৯০ – ২১০০ ফা) থাকবে। যখন এই টেম্পাচার ১০০০ সেঃ হবে তখন  ইঞ্জিন এলার্ম দিবে, কারণ ১০০ সেঃ হচ্চে পানির বয়েলিং টেম্পারেচার । আর এই এলার্ম দেবার কিছুক্ষন পরেই শাট-ডাউন এলার্ম দিয়ে ইঞ্জিন ট্রিপ বা বন্ধ হয়ে যায় । এখানে যদি ইঞ্জিনের রেডিয়েটর আপরিস্কার থাকে, পরিমান মত পানি রেডিয়েটরে যদি না থাকে,  রেডিয়েটরের ফ্যান বেল্ট যদি লুজ থাকে বা ছিড়ে যায়, জ্যাকেট ওয়াটার থার্মোষ্টাট ভাল্বে যদি ঠিক ভাবে কাজ না করে কিংবা ইঞ্জিনের লোড যদি হঠাৎ বেড়ে যায়, তা হলে ইঞ্জিনের হাই জ্যাকেট ওয়াটার টেম্পারেচার এলার্ম আসে।

জেনারেটর

স্টার্টিং মটর দুর্বল , ব্যাটারী দুর্বল,স্টার্টিং পাম্প এর প্রেসার কম হয় কোন কারনে?

স্টার্টিং মটর দুর্বল অনেক কারনেই হতে পারে, এটা বেশিদিন ব্যাবহার করার কারনে অথবা অতিরিক্ত ব্যাবহারের ফলে এর দাঁত ক্ষয় গেলে স্টার্টিং মটর দুর্বল হয়ে যায় । ডায়নামো থেকে সঠিক ভাবে চার্জ না নিতে পারলে আস্তে আস্তে ব্যাটারী দুর্বল হয়ে যায় । আবার অনেকসময় বেশিদিন ব্যাবহার করার কারনে এই সমস্যা হতে পারে। আর ফুয়েল লাইনে কোন সমস্যা থাকলে স্টার্টিং পাম্প এর প্রেসার কম দেখায়। আবার ইনজেক্টার এর সমস্যা থাকতে পারে এবং  ইনজেকশান পাম্পের ও সমস্যা থাকতে পারে ।

জেনারেটর এর আর. পি.এম ধীরে ধীরে কমে যাওয়া  ইঞ্জিনের লোড কমে  যাওয়া এবং এক সময়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারন কি?

ইঞ্জিনের এই সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে সব সময় ভাল এবং ভেজাল মুক্ত ডিজেল ব্যবহার করতে হবে । ফুয়েল ফিল্টার ও ডিজেল ওয়াটার সেপারেটার অবশ্যই পরিস্কার রাখতে হবে । পানি ড্রেন করানোর বাবস্থা রাখতে হবে। ইঞ্জিন চালু অবস্থায় ডিজেল ভরা যাবে না এটা করলে ট্যাংকের তলার ময়লা ফিল্টার কে জ্যাম করে দেয় । একটি নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্তি সময় ইঞ্জিন চালানো যাবে না, এখানে নির্দিষ্ট সময় নির্ভর করে ইঞ্জিনের কাপাসিটির ঊপরে। যদি এই নিয়োমগুলো অনুসরণ করা যায় তাহলে আর. পি.এম ধীরে ধীরে কমে যাওয়া এবং ইঞ্জিনের লোড কমে  যাওয়া ও আপনাআপনি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবেনা ।

ইঞ্জিনের জ্যাকেট ওয়াটার টেম্পারেচার বেড়ে যায় কি কারনে?

এই সমস্যা অনেকগুলো কারনে হয়ে থাকে তার মাঝে এখানে উল্লেখিত কারণগুলো অন্যতম । যদি রেডিয়েটর অপরিস্কার থাকে, ইঞ্জিনের রেডিয়েটরে পরিমান মত পানি না থাকার কারনে, হঠাৎ ইঞ্জিনের লোড বৃদ্ধি পেলে, ইঞ্জিন রুমের আশে পাশের তাপমাত্রা বেশী থাকলে, ইঞ্জিনের ফ্যান বেল্ট ছিড়ে গেলে বা লুজ হয়ে গেলে এবং জ্যাকেট ওয়াটার থার্মোস্ট্যট ভাল্ব বা টেম্পারেচার রেগুলেটার যদি ঠিক ভাবে কাজ না করে তাহলে ইঞ্জিনের জ্যাকেট ওয়াটার টেম্পারেচার বেড়ে যায় এবং সিগন্যাল দেখা যায় ।

জেনারেটর

জেনারেটর চালু দিতে গেলে  সমস্যা হয়ার  কিছু কারণ

অনেক সময় দেখা যায় ডিজেল ফুয়েল প্রেসার কম । এটা ফুয়েল লাইনে বাতাস ঢুকলে এয়ার  লক হলে তা বাইর না করা পর্যন্ত ইঞ্জিন কখনই চালু হয়না । এটি সমাধানের জন্য ফিল্টারের বেজমেন্টে এয়ার লক নাট খুলে ফুয়েল প্রাইমিং পাম্প দ্বারা পাম্প করতে হয় । এটা করলে বাতাস ফেনার মতো ডিজেলের সাথে বেরিয়ে আসবে । এভাবে সমস্ত বাতাস বের করার ইঞ্জিন চালু দিতে হয়।

জেনারেটর নিয়ে ভাইবা প্রশ্নো এবং উত্তর জানতে এখানে ক্লিক করুন

ইউটিলিটি এবং পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

জেনারেটর, টারবাইন,কনডেন্সার এবং বয়লার নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

জেনারেটর এর এলার্ম , প্রোটেকশান সিস্টেম, সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন এইটুকুই ছিলো। আমাদের লিখাগুলো ভাললাগলে কমেন্ট করে জানাবেন এবং কোন প্রশ্নো থাকলে কমেন্ট বক্সে লিখে ফেলুন, আমরা সময়মত আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেস্টা করি। ভালোথাকুন এবং সাথেয় থাকুন EEEcareers এর।

LEAVE A REPLY